Sunday , 19 November 2017

সিলেটে যখন সালমান শাহ্‌ লাশঃ এক হৃদয়বিদারক দৃশ্য (ভিডিও সহ)

Loading...
abdulahad123k2_1409978799_1-Kobiokabbo_1369988401_3-kobiokabbo_1346871680_1-salmanshah-6চলতি সময়ের একমাত্র সুপারস্টার, চলচ্চিত্রের গগনচুম্বী নায়ক সালমান শাহ্‌’র লাশ সিলেটে পৌছার পরপরই সেখানে এক হৃদয়বিদারক এবং অভাবিত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। ৭ সেপ্টেম্বর শনিবার সালমানের লাশ দাফনের জন্য সিলেটে নিয়ে যাবার পর শহরে শোকার্ত মানুষের ঢল নামে। শোকার্ত এই জনস্রোত সামাল দিতে হযরত শাহ্‌জালালের (রহঃ) দরগা এলাকায় পুলিশ লাঠিচার্জ করতে বাধ্য হয়। মাত্র ঘণ্টাখানেকের মধ্যে সিলেট দরগা এলাকা জনস্রোতে সয়লাব হয়ে যায়। শোকাহত ভক্তকুলকে নানান চেষ্টায়ও সামাল দেয়া যায়নি। কর্মসূচী অনুযায়ী আনুষ্ঠানিকতা ছাড়াই শেষপর্যন্ত লাশ দাফন করতে হয়।
শুক্রবার দিবাগত রাত দুটোর সময় সালমানের কফিন পৌঁছে সিলেট শহরের দাড়িয়া পাড়ায় তাঁর নানার বাসায়। সালমানের লাশের সঙ্গে তাঁর মা-বাবা, ছোট ভাই ইভান এবং কয়েকজন নিকটআত্মীয় ছিলেন। এর আগে রেডিও-টিভির খবর এবং স্থানীয়ভাবে মাইকিং-এর কারণে শত শত নারী-পুরুষ আগে থেকেই সেখানে অপেক্ষমাণ ছিলেন। কফিন পৌছার কিছুক্ষণের মধ্যেই চারিদিকে কান্নার রোল পড়ে। অভাবিত হৃদয়বিদারক এক দৃশ্যর অবতারণা হয়। রাত যত শেষ হতে থাকে মানুষের ভিড় ততই বাড়তে থাকে।সকালবেলায় দেখা যায় সমগ্র এলাকা লোকে লোকারণ্য। কর্মসূচীতে ছিল সকাল এগারোটায় জনসাধারণের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য কফিন নেয়া হবে সিলেট শিল্পকলা একাডেমীতে।
 
Loading...

এরপর জানাজার জন্য বাদ জোহর কফিন হযরত শাহ্‌জালাল (রহঃ)-এর দরগা প্রাঙ্গণে নিয়ে যাওয়া হবে। কিন্তু প্রবল জনস্রোত আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী আর স্বেচ্ছাসেবকরা সামাল দিতে ব্যর্থ হলে সকাল ১০টায় কফিন সিলেট শহরের শেখঘাটে সালমানের দাদার বাড়িতে নিয়ে যাবার সিদ্ধান্ত হয়। কফিন দাড়িয়া পাড়ার বাসা থেকে বের করার পর সৃষ্টি হয় এক মর্মস্পর্শী পরিস্থিতি। হাজার হাজার মানুষ কফিনবাহী ট্রাকের সামনে পিছনে হাঁটতে থাকে। ভিড়ের চাপে শেখঘাটে নির্ধারিত বাড়িতে ট্রাক ঢোকানো সম্ভব না হওয়ায় ট্রাক ঘুরিয়ে সিলেট স্টেডিয়ামে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু সেখানেও জনস্রোতের চাপ আরও বৃদ্ধি পাওয়ায় প্রচণ্ড রকম ভিড়ের সৃষ্টি হয়। এরকম পরিস্থিতিতে কফিন স্টেডিয়ামে নামানো সম্ভব না হওয়ায় কফিন নিয়ে যাওয়া হয় সিলেট অডিটোরিয়ামের পাশে। এখানে লাশ নামানোর পর ভক্তরা তাদের প্রিয় নায়ককে একনজর দেখার জন্য কফিনটি সামান্য স্পর্শ করার প্রতিযোগিতা শুরু হলে কফিনটি ভেঙ্গে পড়ার উপক্রম হয়। দেরি না করে তৎক্ষণাৎ কফিন নিয়ে যাওয়া হয় দরগা প্রঙ্গণে। বাদ জোহর সেখানে জানাজার হবার কথা ছিল, কিন্তু জনস্রোতের ধাক্কায় দরগা প্রাঙ্গণের ফটকের গ্রিলসহ প্রাচীরের বেশকিছু অংশ ভেঙ্গে পড়ে। জনস্রোত শুধুমাত্র সালমানের কফিনের কাছাকাছি পৌঁছাবার চেষ্টা করায় সেখানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ বহির্ভূত হয়ে পড়ে। পুলিশ লাঠিচার্জ শুরু করলে পরিস্থিতির আরো অবনতি ঘটে। জানাজার পরিস্থিতি তখন সেখানে ছিল না। অবশেষে দরগার ইমাম মোতাওয়াল্লিদের অনুরোধে সালমানের অভিভাবকরা দ্রুত দাফন সম্পন্ন করার কাজ শুরু করেন। পুলিশ ও স্বেচ্ছাসেবকদের গড়া ব্যারিকেডের ভেতর তাড়াহুড়া করে দাফন সম্পন্ন করা হয় দুপুর ১২টার সময়।
 
 salmandeathSalman_Shah_667160853
ট্র্যাজিক মৃত্যুর শিকার সুপারস্টার সালমানের শেষশয্যা হয়েছে বঙ্গবীর ওসমানীর সমাধির কয়েক গজ দূরে, তাঁর নানা কামরুজ্জামানের কবরের পাশে। উল্লেখ্য, মরহুম কামরুজ্জামান ছিলেন এদেশের প্রথম সবাক ছবি ‘মুখ ও মুখোশ’-এর অন্যতম অভিনেতা। দাফন শেষেও সালমানের সমাধির পাশে জনস্রোত কমেনি। তাঁর কবর ছোঁয়ার জন্য ভক্তরা দীর্ঘ সময় ধরে সারিবদ্ধভাবে অপেক্ষা করে। ভক্তরা ফুলে ফুলে ভরিয়ে দেয় সালমান শাহ্‌’র সমাধি। ** সালমানকে নিয়ে সাংবাদিক রবি আরমানের লেখা একটি বই থেকে
 
এই লেখা সংগৃহীত অনুলিখন: মাসুদ রানা নকিব
Facebook Comments

Leave a Reply