Wednesday , 24 May 2017
Home / Crime News / স্ত্রী প্র্যাগনেন্ট হয়ে গেছে অথচ দীর্ঘ সাড়ে ৩ বছর ধরে স্বামী বিদেশ! কীভাবে সম্ভব? (ভিডিও )

স্ত্রী প্র্যাগনেন্ট হয়ে গেছে অথচ দীর্ঘ সাড়ে ৩ বছর ধরে স্বামী বিদেশ! কীভাবে সম্ভব? (ভিডিও )

Loading...

শারীরিক কোনো সম্পর্ক ছাড়াই অন্তঃসত্ত্বা (গর্ভবতী) হয়ে পড়েছেন ৪৬ বছর বয়স্কা এক নারী। ঘটনাটি প্রকৃতপক্ষে আষাঢ়ে গল্প মনে হলেও ল্যাবরেটরির পরীক্ষায় তাই বলা হয়েছে। বন্দরনগরী চট্টগ্রামের চান্দগাঁও থানার শহীদপাড়ার বাসিন্দা ওই নারী।

ল্যাবরেটরির ওই সব কাগজপত্র হাতে পেয়ে তাজ্জব বনে যান ওই নারীর প্রবাসী স্বামী মো. রাজীবও। তাদের মাঝে জন্ম নেয় চরম অবিশ্বাসের। কিন্ত ওই নারী অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার কোনো আলামত না পেয়ে ঋতু পিরিয়ডের মধ্যে অপর একটি ল্যাবরেটরিতে পরীক্ষা করে ভুতুড়ে তথ্য পান।

এরপর ভুতুড়ে পরীক্ষার কারণে তার সামাজিক মর্যাদা ও প্রায় এক লাখ ৮০ হাজার টাকা ক্ষতির শিকার হওয়ার অভিযোগ এনে বুধবার ওই ল্যাবরেটরির বিরুদ্ধে চট্টগ্রাম মহানগর ও দায়রা জজ এস এম মজিবুর রহমানের আদালতে মামলাও ঠুকে দেন।

আদালত মামলা আমলে নিয়ে চট্টগ্রাম মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের উপ-কমিশনারকে বিষয়টি তদন্ত করে আদালতে প্রতিবেদন দেয়ার জন্য নির্দেশ দেন। মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার বাবুল আক্তার মামলার তদন্তের দায়িত্ব পান।

স্ত্রী প্র্যাগনেন্ট হয়ে গেছে অথচ দীর্ঘ সাড়ে ৩ বছর ধরে স্বামী বিদেশ! কীভাবে সম্ভব? ভিডিও দেখুন

7

Loading...

বাবুল আক্তার জানান, নগরীর ডবলমুরিং থানার আগ্রাবাদ এক্সেস রোড এলাকার এ্যাপেক্স ডায়াগনস্টিক সার্ভিস (প্রা:) লিমিটেড নামে একটি ল্যাবরেটরিতে এ ঘটনাটি ঘটে। বিষয়টি মেনে নিতে না পেরে সামাজিক সম্মানহানি ও আর্থিক ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন দাবি করে এর প্রতিকার চেয়ে আদালতে মামলা করেন ঘটনার শিকার শেলী আক্তার। তিনি জানান, নগরীর চান্দগাঁও থানার শহীদপাড়া এলাকার প্রবাসী মো. রাজীবের স্ত্রী ও ৬ সন্তানের জননী শেলী আক্তার বিদেশ যাওয়ার পূর্ব শর্তানুযায়ী শারীরিক পরীক্ষা করতে গত ৯ মার্চ নগরীর লালখান বাজার এলাকার গামকা অফিসে যান। সেখান থেকে একটি স্লিপ দিয়ে তাকে পাঠানো হয় আগ্রাবাদ সিঙ্গাপুর-ব্যাংকক মার্কেটের এ্যাপেক্স ডায়াগনস্টিক সার্ভিস (প্রা:) লিমিটেডে। ওখানে যাওয়ার পর বাদি শেলী আক্তারের রক্ত ও প্রস্রাব পরীক্ষা-নিরীক্ষা করলে গর্ভবতী বলে রিপোর্ট দেয় এ্যাপেক্স ডায়াগনস্টিক কর্তৃপক্ষ।

কিন্ত দীর্ঘ সাড়ে ৩ বছর ধরে স্বামী বিদেশ থাকায় এমন রিপোর্ট হাতে পেয়ে হতবিহ্বল হয়ে পড়েন তিনি। রিপোটের কাগজপত্র হাতে পেয়ে তাজ্জব বনে যান স্বামীও। এ নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে চরম অবিশ্বাস ও মনোমালিন্য সৃষ্টি হয়। এতে বিদেশ যাওয়ার ভিসাসহ যাবতীয় কাগজপত্র নষ্ট করে ফেলেন স্বামী। পরে স্বজনদের পরামর্শে নগরীর মোমিন রোডের কদম মোবারক মার্কেটের ম্যাগনামা ডায়াগনস্টিক লিমিটেডে রক্ত ও প্রস্রাব পরীক্ষা করলে রিপোর্ট দেয় অন্তঃসত্ত্বা নয় বলে। পরামর্শের জন্য চিকিৎসকের কাছে গেলে জানতে পারেন এ্যাপেক্স ডায়াগনস্টিক সার্ভিস (প্রা:) লিমিটিডের রিপোর্টটি ভুয়া ও মিথ্যা।

মামলার বিবরণীতে শেলী আক্তার অভিযোগ করেন, সত্যতা যাচাইয়ের জন্য এ্যাপেক্স ডায়াগনস্টিক সার্ভিস (প্রা:) লিমিটেডে রক্ত ও প্রস্রাব পরীক্ষা করতে গেলে বাদির উপর ক্ষেপে যান এ্যাপেক্স ডায়াগনস্টিক সার্ভিস (প্রা:) লিমিটিডের টেকনিশিয়ান ও কর্তৃপক্ষ। এ সময় বাদিকে বিভিন্ন ধরনের হুমকি দেন তারা। এই মিথ্যা রিপোর্টের কারণে বাদি সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন ও আর্থিকভাবে প্রায় এক লাখ ৮০ হাজার টাকার ক্ষতির শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়।

কক্সবাজারের বিলাসবহুল হোটেল গুলোতে যা হচ্ছে দেখুন চোমকে উঠবেন(ভিডিও)

3

বাদি পক্ষের আইনজীবী আতাউর রহমান বলেন, এ ধরনের রিপোর্ট পাওয়া রহস্যজনক। কোনো পরীক্ষা-নিরীক্ষা ছাড়াই দায়িত্বজ্ঞানহীন ভাবে মিথ্যা রিপোর্ট দিয়ে প্রতারণা করে যাচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি। এমনকি এ্যাপেক্স ডায়াগনস্টিক সেন্টার এক জায়গায় বসে অন্য ঠিকানা ব্যবহার করে ব্যবসা করে যাচ্ছে। এ বিষয়ে জানার জন্য নগরীর আগ্রাবাদে এ্যাপেক্স ডায়াগনস্টিক সেন্টারের অফিসে গিয়ে কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলার চেষ্টা করলেও কেউ কোনো রকম মন্তব্য করতে রাজি হননি।

Facebook Comments

Leave a Reply