Friday , 26 May 2017
Home / Life style / ঘুমের ঘোরে উচ্চ স্থান থেকে পরে যাওয়া এবং বোবায় ধরার মানে কি জানেন? জানুন এই স্বপ্নের রহস্য

ঘুমের ঘোরে উচ্চ স্থান থেকে পরে যাওয়া এবং বোবায় ধরার মানে কি জানেন? জানুন এই স্বপ্নের রহস্য

Loading...

সারাদিনের পরিশ্রম শেষে ঘুম যেন এক চিরচেনা শান্তির পরশ। কিন্তু ঘুমের এই রাজ্যের সাথে আমাদের জাগ্রত মনের খবরাখবর লেনদেন কোথায় যেন গিয়ে সীমাবদ্ধ। আপনি সারাদিনের পরিশ্রম শেষে ঘুমাতে গেলেন, বাতি নিভিয়ে ঘুমিয়ে গেলেন কিন্তু হঠাত অনুভব করলেন উপর থেকে নিচে পড়ে যাচ্ছেন। কিংবা আরামের ঘুমের মধ্যে হঠাত মনে হলো কেও একজন আপনার বুকের উপর চেপে বসে আছে। নড়াচড়া করতে পারছেন না, গলা দিয়ে স্বর ও বের হচ্ছেনা। কিছুক্ষণ পর ঘেমে নেয়ে আসলেন আপনি, আস্তে আস্তে স্বাভাবিক হয়ে উঠলো সবকিছু। এই ঘটনাকে অনেকেই জ্বিনের আছর বলে আখ্যায়িত করেন! কিন্তু এর পিছে বৈজ্ঞানিক সুস্পষ্ট ব্যখ্যা রয়েছে।

দেখুন কিভাবে দিনে ১ লাখ টাকার বেশী ইনকাম করে মেয়েটি! শুধুমাত্র প্রাপ্তবয়স্করাই দেখুন (ভিডিও)

9

ঘুমের মধ্যে হঠাত পড়ে যাওয়ার এই অনুভূতি কে বলা হয় হাইপোনিক জার্ক। আসলে মস্তিষ্ক আর শরীরের মধ্যে এক ধরনের ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টির ফলেই এই ঘটনার উৎপত্তি। ঘুমানোর সাথে সাথেই আমাদের মাংসপেশীগুলো শিথিল হওয়া শুরু করে। কিন্তু অনেক সময় এই ঘটনা শুরুর সাথে সাথেই মস্তিষ্ক সেটা বুঝে উঠতে পারে না। হঠাত করে শরীর ছেড়ে দেবার এই ঘটনাকে সে উপর থেকে নিচে যাওয়া ভেবে ভুল করে। সুতরাং উপর থেকে নিচে পড়ে যাওয়ার এই বিপদ মোকাবেলা করার জন্য মস্তিষ্কের মাতব্বরীতে হাত-পা শক্ত হয়ে যায় আর হঠাত ঝাকি দিয়ে আমরা ঘুম থেকে জেগে উঠি।

Loading...

 পৃথিবীর কিছু রহস্যময় জায়গা যেখানে আজও কোন মানুষ জীবিত গিয়ে ফিরে আসতে পারেনি (ভিডিও)

খেয়াল করলে দেখবেন যে প্রচণ্ড কাজ বা পড়াশুনার চাপে থাকলে এই ঘটনা বেশি ঘটে। এর কারণ হলো এসব চিন্তার মধ্যে থাকলে দেখা যায় আমরা ঘুমানোর সময় ও এগুলা ভাবতে ভাবতেই ঘুমাই। যার ফলে ব্রেন ঐ দিকে ব্যস্ত থাকে আর আপনাকে যে ঘুমের পর মাংসপেশি শিথীল হয়ে যাওয়া যে স্বাভাবিক এই কথা বেমালুম ভুলে যায়। তাই সাধারণ এই ঘটনাকে উপর থেকে পড়ে যাবার দূর্ঘটনা ভেবে ভুল করে।

এতো গেল এক ধরনের সমস্যা, কিন্তু বোবায় ধরা আসলে কী? প্রথমে বলি এর নামকরণ বৃত্তান্ত। প্রাচীনকালে মানুষের ধারণা ছিল বোবা নামে এক ধরনের ভূত ঘুমের মধ্যে মানুষের বুকে চেপে বসে সাময়িক ভাবে তাকে বোবা করে দেয়। তাই কালক্রমে এই ঘটনাকে বোবায় ধরা হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়। সাধারণভাবে একে স্লিপ প্যারালাইসিস বলা হয়।

আমাদের ঘুমের দুইটি পর্যায় আছে। আরইএম (র‍্যপিড আই মুভমেন্ট) আর নন আরইএম (নন র‍্যাপিড আই মুভমেন্ট) পর্যায়। এই দুই পর্যায়ের মধ্যে যদি কখনও আমাদের ঘুম ভেংগে যায় তাহলে আমাদের জেগে থাকা সম্পর্কে মস্তিষ্ক অবগত থাকে না। খেয়াল করলে দেখবেন এইরকম অবস্থা স্বপ্ন দেখতে দেখতেই বেশি হয়, অর্থাৎ হঠাত করে স্বপ্ন ভেঙে যাবার পর এরকম ঘটনার উতপত্তি হয় অধিকাংশ সময়ে। আরইএম পর্যায়ে আমরা মূলত স্বপ্ন দেখি আর হঠাত ঘুম ভেঙ্গে গেলে আমরা ননআরইএম পর্যায় পরিভ্রমণ করে তারপর জেগে উঠি। অর্থাৎ গাঢ় ঘুম আগে হালকা হয় তারপর আমরা জাগি। কিন্তু কখনও কখনও মস্তিষ্ক এত দ্রুত ব্যপারটা ধরতে পারে না। তাই সে ভেবে বসে আমরা এখনও ঘুমিয়েই আছি। তাই শরীর ঘুমের মতোনই শিথীল থাকে। আমরা যে জেগে আছি এটা জানতে তার কয়েক সেকেন্ড থেকে কয়েক মিনিট পর্যন্ত সময় লাগতে পারে।

Facebook Comments

Leave a Reply