
কক্সবাজারের চকরিয়ায় অবৈধ ইটভাটা উচ্ছেদে যাওয়া যৌথবাহিনীর ওপর শ্রমিকদের বাধা ও হামলার ঘটনা ঘটেছে।
বৃহস্পতিবার (২০ নভেম্বর) দুপুরে চকরিয়ার পার্শ্ববর্তী বান্দরবানের লামা উপজেলার সীমান্তবর্তী মানিকপুর, ময়ূরঘোনা ও পাগলীপাড়া এলাকায় অভিযানের সময় এ ঘটনা ঘটে।
অভিযানের শুরুতে উপজেলার কাকারা ইউনিয়নের পাহাড়তলী বাদশারটেক এলাকায় সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় উত্তেজনা দেখা দেয়। এ সময় ইটপাটকেল নিক্ষেপ, ধাওয়া–পাল্টা ধাওয়া ও গাড়ি ভাঙচুরে অন্তত কয়েকজন সাংবাদিক, যৌথবাহিনীর সদস্য ও শ্রমিক আহত হন।
পরিবেশ অধিদপ্তর পরিচালিত বিশেষ এই অভিযানে নেতৃত্ব দেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রেজুয়ান উল ইসলাম। তার সঙ্গে ছিলেন আলীকদম সেনা জোনের উপঅধিনায়ক মেজর হাফিজ, লামার সহকারী ম্যাজিস্ট্রেট রুবায়েত আহমেদ, লামা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তোফাজ্জল হোসেনসহ সেনা, পুলিশ, বিজিবি, ফায়ার সার্ভিস ও পরিবেশ অধিদপ্তরের সদস্যরা।
আভিযানিক দলটি মানিকপুরের দিকে রওনা দিয়ে বাদশারটেক এলাকায় পৌঁছালে বিক্ষুব্ধ ইটভাটা শ্রমিকরা ট্রাক দাঁড় করিয়ে চলাচলের রাস্তা অবরোধ করেন। তারা জড়ো হয়ে অভিযানে বাধা দিলে পরিস্থিতি কিছুক্ষণের মধ্যেই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। প্রথমে বাকবিতণ্ডা, পরে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া এবং শেষ পর্যন্ত বিক্ষিপ্ত সংঘর্ষে রূপ নেয়।
প্রত্যক্ষদর্শী একটি জাতীয় দৈনিকের সাংবাদিক মিজানুর রহমান বলেন, হঠাৎ দৌড়াদৌড়ি, চিৎকার, ইটপাটকেলের শব্দ শুনতে পাই। মুহূর্তেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চরে যায়। কে কার ওপর হামলা করছে, বোঝার উপায় ছিল না।
সংঘর্ষের সময় বিজিবির একটি সরকারি গাড়িসহ অন্তত তিনটি গাড়ি ভাঙচুর করা হয়। দায়িত্ব পালনকালে কয়েকজন সাংবাদিকও হামলার শিকার হন। আহতদের স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

এদিকে ইটভাটা মালিকপক্ষের ফোর বিএমের মালিক মাস্টার খাইরুল ইসলাম বলেন, হাইকোর্ট ৯৬০৬/২২ ও ১৩১৯১/২২-এর রিটের আলোকে পরিবেশ সুরক্ষিত এলাকা শনাক্ত করে স্থানান্তরের জন্য ছয় মাস সময় দিয়েছে।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, ছয় মাসের মধ্যে এখনো তিন মাস বাকি। আমরা পরিবেশ অধিদপ্তরকে সময় বাড়ানোর অনুরোধ করেছি। প্রয়োজনে কোটি টাকা জরিমানাও মেনে নেব। কিন্তু আগাম ঘোষণা না দিয়ে অভিযান চালানো হচ্ছে।
স্থানীয় শ্রমিক বজলুল কাদের বলেন, ভাটা বন্ধ হলে আমাদের পরিবার চলবে কীভাবে—এ কথা কেউ ভাবেনি। আমরা শুধু কথা বলতে গিয়েছিলাম, পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।
সংঘর্ষের পর ঘটনাস্থল থেকে মো. আরাফাতসহ আটজনকে আটক করে যৌথবাহিনী। পুলিশের দাবি, আটক আরাফাত শ্রমিকদের উসকে দেওয়ার ‘মূল ভূমিকায়’ ছিলেন।
চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তৌহিদুল আনোয়ার ঢাকা পোস্টকে বলেন, মানিকপুর–পাগলীপাড়া এলাকায় বেশ কয়েকটি ইটভাটা সম্পূর্ণ অবৈধভাবে পরিচালিত হচ্ছিল। সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী অভিযান চালাতে গেলে শ্রমিকদের একটি অংশ হামলা করে।
ঘটনাস্থল ও আশপাশের এলাকায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত সেনাবাহিনী, র্যাব, পুলিশ ও বিজিবি মোতায়েন রয়েছে বলে জানান তিনি।