ট্রাম্পের সাথে সাক্ষাৎ করতে গিয়ে অদ্ভুত জিনিস দেখলেন জোহরান মামদানি

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক নগরের নবনির্বাচিত মেয়র জোহরান মামদানি গত সপ্তাহে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে হোয়াইট হাউসে সাক্ষাৎ করেছেন। এ সময় তিনি সেখানে দেখা সবচেয়ে ‘অদ্ভুত জিনিসটি’ প্রকাশ করেছেন।

ওয়েবভিত্তিক ‘দ্য অ্যাডাম ফ্রিডল্যান্ড শো’–তে এই ডেমোক্র্যাট সমাজতান্ত্রিক নেতা বলেন, ট্রাম্পের পড়ার বইপত্রের মধ্যে তিনি একটি ‘ইউএফসি’ কফি টেবিল বুক দেখতে পান। তিনি বলেন, জুনে হোয়াইট হাউসের সাউথ লনে মিক্সড মার্শাল আর্টসের অনুষ্ঠান হওয়ার কথা ছিল, সে ব্যাপারে তাঁর ‘কোনো ধারণাই ছিল না’।

নিজের সেই দিনের কথা স্মরণ করে ৩৪ বছর বয়সী জোহরান মামদানি বলেন, ‘সভার সময়ের অপেক্ষায় আমি বসে আছি। আর আমার সামনে ছিল এসব বিভিন্ন কফি টেবিল বুক।’

জোহরান মামদানি আরও বলেন, ‘এবং সেগুলোর মধ্যে একটি ছিল “হোয়াইট হাউসে ইউএফসি”। আমার কোনো ধারণাই ছিল না, আর আমি কেবল সেটি উল্টেপাল্টে দেখছিলাম।’

বইটিতে মারামারির ছবি দেখা গেছে কি না জানতে চাইলে নিউইয়র্কের নবনির্বাচিত মেয়র বলেন, আসলে সেগুলো শুধু দেখানোর জন্য, যাতে বোঝানো যায় যে ইউএফসির অষ্টভুজ আকৃতির লড়াইয়ের খাঁচা সাউথ লনে বসালে কেমন দেখাত।

আমেরিকার ২৫০তম বার্ষিকী উদ্‌যাপনের অংশ হিসেবে ট্রাম্প চলতি বছরের জুলাইয়ে এই ইভেন্টের ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। এটি ২০২৬ সালের ১৪ জুন প্রেসিডেন্টের ৮০তম জন্মদিনের সঙ্গে মিলিয়ে আয়োজন করার কথা রয়েছে।

জোহরান মামদানিকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, তিনি ওই অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার পরিকল্পনা করছেন কি না। তিনি হেসে উত্তর দেন, ‘না’।

হোয়াইট হাউসে মার্কিন প্রেসিডেন্টের সঙ্গে অপ্রত্যাশিতভাবে বন্ধুত্বপূর্ণ বৈঠকের কয়েক দিন পরেই এনবিসির সঙ্গে অন্য এক সাক্ষাৎকারে জোহরান পুনর্ব্যক্ত করেছেন, তিনি ট্রাম্পকে এখনো একজন ‘ফ্যাসিবাদী’ ও ‘স্বৈরাচারী’ হিসেবে দেখেন।

গত রোববার এনবিসির ‘মিট দ্য প্রেস’–এ দেওয়া সাক্ষাৎকারে জোহরানকে জিজ্ঞাসা করা হয়, তিনি এখনো ট্রাম্পকে গণতন্ত্রের জন্য হুমকি মনে করেন কি না।

উত্তরে জোহরান মামদানি বলেন, ‘অতীতে আমি যা কিছু বলেছি, আমি সেগুলোয় বিশ্বাস করি…আমি মনে করি, আমাদের রাজনীতিতে যেখানে মতপার্থক্য আছে, সেখান থেকে পিছিয়ে না আসাটা গুরুত্বপূর্ণ।’

হোয়াইট হাউসে সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে যৌথ আলাপচারিতার সময় এক সাংবাদিক যখন জোহরান মামদানির কাছে জানতে চান, তিনি এখনো প্রেসিডেন্টকে ফ্যাসিবাদী মনে করেন কি না, তখন ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজেই নবনির্বাচিত মেয়রের সাহায্যে এগিয়ে আসেন।

জোহরান মামদানিকে বাধা দিয়ে ট্রাম্প বলেন, ‘ঠিক আছে। আপনি শুধু এটাই বলতে পারেন। এটাই সহজ…এটা ব্যাখ্যা করার চেয়ে সহজ। আমি কিছু মনে করি না।’

এ মুহূর্তটি দ্রুতই অনলাইনে ভাইরাল হয়ে যায় এবং অনেকেই দুজনের মধ্যকার অপ্রত্যাশিত সৌহার্দ্য লক্ষ করেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Theme by: Theme Horse Proudly powered by: WordPress