চেষ্টা থাকলে জয় নিশ্চিত”—মিথিলার বিশ্বাস, বাংলাদেশের মানুষ সবক্ষেত্রেই এগিয়ে যেতে পারে

এবারের আসরে প্রথম রানারআপ হয়েছেন মিস থাইল্যান্ড প্রবিনার সিং। প্রতিযোগিতার চূড়ান্ত ফল ঘোষণার তিন দিন আগে দুই বিচারক পদত্যাগ করেন। তাদের একজন নির্বাচনপ্রক্রিয়াকে ‘অস্বচ্ছ’ বলে অভিযোগ তোলেন, যা নিয়ে আয়োজনজুড়ে ছিল অতিরিক্ত উত্তেজনা ও আলোচনার ঝড়।

থাইল্যান্ডে অনুষ্ঠিত মিস ইউনিভার্সের মূল মঞ্চে অংশ নিয়ে ১৯দিন পর মঙ্গলবার বিকেলে দেশে ফিরেছেন তানজিয়া জামান মিথিলা।
তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নেমে তিনি বলেন, ​“যতদিন না পর্যন্ত পেজেন্ট নিয়ে মানুষের দৃষ্টিভঙ্গী পরিবর্তিত হচ্ছে, ততদিন এই মুহূর্তে বিজয়ী হওয়া সহজ বা সম্ভব নয়। ​আমি গভীরভাবে বিশ্বাস করি, আমরা বাংলাদেশীরা যেকোনো ক্ষেত্রেই বিজয়ী হতে পারি। তার জন্য শুধু সবার পক্ষ থেকে ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গী ও সম্মিলিত সঠিক সমর্থন প্রয়োজন।”

তিনি বলেন, যারা সেরা ৩০-এ গেছে আমি দেখেছি প্রত্যেকেই মিস ইউনিভার্স-এর মুটুক পাওয়ার যোগ্য। আর বাংলাদেশ থেকে এই প্রথম কেউ এত বড় মঞ্চে পজিশন পেল। আমি মনে করি, এটা আমাদের কাছে জয়ের মতো আনন্দের। আমি বাংলাদেশের জন্য রেভুলেশন এনেছি। দেশের মানুষ অনেক সাপোর্ট করেছেন, তারা ভোট দিয়েছে এজন্য তাদের কৃতজ্ঞতা জানাই। আগামীতে যারা এই মঞ্চে বাংলাদেশ থেকে প্রতিযোগিতা করবে আমি তাদের যে কোনো ধরনের হেল্প লাগলে করবো।

প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়ার পর মিথিলাকে পিকিনি পরা অবস্থায় দেখে অনেকে বাংলাদেশ থেকে তার কড়া সমালোচনা করেন।

এ প্রসঙ্গে মিথিলা বলেন, “ক্লোজ ডোর ইন্টার্ভিউ, ইভিনিং গাউন, ন্যাশনাল কস্টিউম, সুইম স্যুট ওয়ার এই চারটি জিনিসের উপর মার্কিং করা হয়। এগুলো যদি কেউ ঠিকমত করতে না পারে তাহলে সে সেরা ৩০ কিংবা টপ পজিশনে যেতে পারবে না। আমি সেরা ৩০ হয়েছি, এটাও পারতাম না যদি সুইম স্যুট ওয়ার না করতাম। বিকিনি বাংলাদেশ থেকে আমি প্রথম পরিনি, আগেও অনেকে পরেছে। আমি কোনোভাবে আমার দেশকে ছোট করিনি।”

মডেল হিসেবে আগেই বাংলাদেশে পরিচিত মিথিলা। নতুন করে কাজে ফেরা প্রসঙ্গে মিথিলা বলেন, দেশে ফেরার আগেই একটা সিনেমার অফার পেয়েছি। তাছাড়া ‘থার্সডে নাইট’ নামে একটি শর্টফিল্ম রিলিজ হতে যাচ্ছে। আশা করছি সবাই দেখবেন।

নানা বিতর্কের মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছে ‘মিস ইউনিভার্স ২০২৫’। প্রতিযোগিতা শুরুর আগে আয়োজক কর্তৃপক্ষের হাতে অপমানিত হন মেক্সিকোর ফাতিমা বশ, যা নিয়ে প্রতিযোগীদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছিল। শেষ পর্যন্ত সবকিছু পেছনে ফেলে বিজয়ী হন ২৫ বছর বয়সী সেই সমাজকর্মী।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Theme by: Theme Horse Proudly powered by: WordPress