ওয়াং ফুক কোর্ট—শোক এখন বুকফাটা ক্ষোভ

হংকংয়ে কয়েক দশকের সবচেয়ে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে অন্তত ৯৪ জনের মৃত্যুর পর হতভম্ব দশা কাটিয়ে ধীরে ধীরে শোক পরিণত হচ্ছে ক্ষোভে।

বুধবার ঘনবসতিপূর্ণ ওই আবাসিক কমপ্লেক্সে আগুন লাগার পর তা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। দমকল কর্মকর্তারা বলছেন, ভবনগুলোর বাইরে সংস্কার কাজের জন্য লাগানো বাঁশের কাঠামো, নিম্নমানের জাল ও প্লাস্টিক শিট আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে সহায়তা করে।
বিবিসি লিখেছে, সরকারি ভর্তুকির ওই আবাসিক কমপ্লেক্সের আটটি ভবনের একটিতে আগুনের সূত্রপাত হয়। পরে তা আরো ছয়টি ভবনে ছড়িয়ে পড়ে।

ওয়াং ফুক কোর্ট নামের ওই আবাসিক কমপ্লেক্সের কিছু ব্লকে এক দিনের বেশি সময় ধরে আগুন জ্বলতে দেখা যায়। এখনও প্রায় ৩০০ মানুষের খোঁজ মিলছে না।
আগুন এত দ্রুত কীভাবে ছড়িয়ে পড়ল, এর দায় কার, সেই প্রশ্ন জোরালো হচ্ছে। অনেকেই একে ‘মানবসৃষ্ট দুর্যোগ’ বলছেন।
ভবনের সংস্কার কাজের সঙ্গে যুক্ত তিনজনকে ইতোমধ্যে গ্রেপ্তার করে তাদের বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে। দুর্নীতির অভিযোগেও তদন্ত শুরু করেছে কর্তৃপক্ষ।

ভবনের বাসিন্দারা জানিয়েছেন, আগুন লাগার সময় ভবনের অ্যালার্ম বাজেনি।
ওয়াং ফুক কোর্টের একটি অ্যাপার্টমেন্টের মালিক কিকো মা জানান, সংস্কারকাজ চলার কারণে অ্যালার্মগুলো বন্ধ রাখা হয়েছিল, কারণ শ্রমিকরা ভবনে ঢোকা-বের হওয়ার জন্য নিয়মিত ফায়ার এস্কেপ ব্যবহার করতেন।

৩৩ বছর বয়সী মা পরিবারের সঙ্গে কানাডায় থাকেন, তবে বছরে কয়েকবার হংকংয়ের ফ্ল্যাটে আসেন।
বিবিসিকে তিনি বলেন, “এমন বিপর্যয় এড়ানো যেত। তারা তাদের দায়িত্ব ঠিকমত পালন করেনি।”

তার অভিযোগ, সংস্কারের দায়িত্বে থাকা ঠিকাদার ‘নিম্নমানের, দাহ্য’ উপকরণ ব্যবহার করছিলেন। শ্রমিকদের ধূমপান করতে দেখা যেত, জানালার ধারে পাওয়া যেত সিগারেটের অবশিষ্টাংশ।

ওয়াং ফুক কোর্টের এই অগ্নিকাণ্ড অন্তত ৬৩ বছরের মধ্যে হংকংয়ের সবচেয়ে প্রাণঘাতী অগ্নিকাণ্ড।
এর আগে ১৯৬২ সালের শাম শুই পো এলাকায় এক অগ্নিকাণ্ডে ৪৪ জনের প্রাণ গিয়েছিল, সেই সংখ্যা এবার ছাড়িয়ে গেছে।

দমকল কর্মকর্তারা বলছেন, ভবনগুলোর বাইরে সংস্কার কাজের জন্য লাগানো বাঁশের কাঠামো, নিম্নমানের জাল ও প্লাস্টিক শিট আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে সহায়তা করে। ছবি: রয়টার্স
আশির দশকে নির্মিত ওয়াং ফুক কোর্টের আটটি ভবনের প্রতিটি ৩১ তলা করে। সেখানে ফ্ল্যাট বিক্রির ক্ষেত্রে সরকার ভর্তুকি দিলেও কমপ্লেক্সটির দৈনন্দিন ব্যবস্থাপনা পরিচালনা করে বেসরকারিভাবে নিয়োগ পাওয়া কোম্পানি।

২০২১ সালের জনগণনায় দেখা যায়, অন্তত ৪ হাজার ৬০০ মানুষ ওই কমপ্লেক্সে বসবাস করতেন, যাদের ৪০ শতাংশের বয়স ৬৫ বা তার বেশি।
শহরের দমকল বিভাগ বলছে, বাসিন্দাদের উদ্ধার করতে গিয়ে উচ্চ তাপমাত্রা, স্ক্যাফোল্ডিং ধসে পড়ার ঝুঁকি এবং ফ্ল্যাটগুলোর সংকীর্ণ ভেতরের অংশসহ নানা চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হয়েছে তাদের।

অতিরিক্ত ঘিঞ্জি আবাসন ব্যবস্থার জন্য কুখ্যাতি রয়েছে হংকংয়ের। এই শহরে সরকারি আবাসনে প্রত্যেক ভাড়াটিয়া পরিবার বসবাসের জন্য গড়ে ১৪.১ বর্গমিটার জায়গা পায়।
আগুন লাগার সময় ওয়াং ফুক কোর্টে কত মানুষ ছিলেন, তা এখনও স্পষ্ট নয়। উদ্ধারকর্মীরা শত শত মানুষকে অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রে সরিয়ে নিয়েছে; অনেকের জন্য জরুরি আবাসিক ইউনিট বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে।

সংস্কারকাজে জাল, প্লাস্টিক ও ক্যানভাস শিট ব্যবহারের ক্ষেত্রে অগ্নি নিরাপত্তার মান পূরণ করা হয়েছিল কি না, তা তদন্ত করছে পুলিশ। কিছু বিশেষজ্ঞের ধারণা, ভবনগুলো ঘিরে বানানো বাঁশের স্ক্যাফোল্ডিং বা মাচা আগুন ছড়াতে সহায়তা করেছে।
হংকংয়ের নির্মাণশিল্পে বাঁশের মাচা ব্যবহার একটি সাধারণ ঘটনা। তবে চলতি বছরের শুরুতে কর্তৃপক্ষ এর ব্যবহার ধাপে ধাপে তুলে দিয়ে আগুন-সহনশীল ইস্পাত ব্যবহারের পরিকল্পনা করে।

ওয়াং ফুক কোর্টের বাসিন্দারা গত বছর সংস্কার পরিকল্পনা ঘোষণার সময়ই উদ্বেগ জানিয়েছিলেন। সেই অভিযোগগুলো আবার সামনে আসায় স্বচ্ছতার অভাব নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।

“দায়িত্বে যারা ছিলেন, তারা ছোটখাটো সুবিধার কথা বলে বয়স্ক বাসিন্দাদের সমর্থন আদায় করতেন।”
মি. লাই নামের একজন বিক্রয়কর্মী বিবিসিকে বলেন, সংস্কার করতে যে অর্থ ব্যয় হচ্ছে, তা নিয়েও বাসিন্দারা প্রশ্ন তুলেছিলেন।
অনেকে ভবনের ব্যবস্থাপনা কমিটিতে নতুন করে নির্বাচন চেয়েছিলেন, তবে তাদের দাবি টেকেনি।
এ আগুন কোনো ‘বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়’ দাবি করে লাই বলেন, নির্মাণ কোম্পানিগুলো প্রায়ই নিরাপত্তার চেয়ে খরচ কমানোর দিকেই বেশি নজর দেয়।

তিনি বলেন, গত মাসে সংস্কার কাজে থাকা আরেকটি ভবনে আগুন লাগার সময় বাঁশের মাচা দাউ দাউ করে জ্বলে উঠেছিল।
একই ধরনের ঘটনা বারবার ঘটলে তো প্রশ্ন ওঠে, সিস্টেমের ভেতেরই গলদ রয়েছে কি না।”

কর্তৃপক্ষ এখন ঘোষণা দিয়েছে, বড় ধরনের সংস্কার কাজ চলছে–এমন সব আবাসিক কমপ্লেক্সে নির্মাণ উপকরণের নিরাপত্তা মান যাচাইয়ে অভিযান চালানো হবে।
হংকংয়ে কয়েক দশকের সবচেয়ে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে অন্তত ৯৪ জনের মৃত্যুর পর হতভম্ব দশা কাটিয়ে ধীরে ধীরে শোক পরিণত হচ্ছে ক্ষোভে।

বুধবার ঘনবসতিপূর্ণ ওই আবাসিক কমপ্লেক্সে আগুন লাগার পর তা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। দমকল কর্মকর্তারা বলছেন, ভবনগুলোর বাইরে সংস্কার কাজের জন্য লাগানো বাঁশের কাঠামো, নিম্নমানের জাল ও প্লাস্টিক শিট আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে সহায়তা করে।

বিবিসি লিখেছে, সরকারি ভর্তুকির ওই আবাসিক কমপ্লেক্সের আটটি ভবনের একটিতে আগুনের সূত্রপাত হয়। পরে তা আরো ছয়টি ভবনে ছড়িয়ে পড়ে।

ওয়াং ফুক কোর্ট নামের ওই আবাসিক কমপ্লেক্সের কিছু ব্লকে এক দিনের বেশি সময় ধরে আগুন জ্বলতে দেখা যায়। এখনও প্রায় ৩০০ মানুষের খোঁজ মিলছে না।

আগুন এত দ্রুত কীভাবে ছড়িয়ে পড়ল, এর দায় কার, সেই প্রশ্ন জোরালো হচ্ছে। অনেকেই একে ‘মানবসৃষ্ট দুর্যোগ’ বলছেন।

অগ্নিকাণ্ডের পর সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া একটি পোস্টে লেখা ছিল: ‘এটা কোনো দুর্ঘটনা নয়’।
ভবনের সংস্কার কাজের সঙ্গে যুক্ত তিনজনকে ইতোমধ্যে গ্রেপ্তার করে তাদের বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে। দুর্নীতির অভিযোগেও তদন্ত শুরু করেছে কর্তৃপক্ষ।

ভবনের বাসিন্দারা জানিয়েছেন, আগুন লাগার সময় ভবনের অ্যালার্ম বাজেনি।
ওয়াং ফুক কোর্টের একটি অ্যাপার্টমেন্টের মালিক কিকো মা জানান, সংস্কারকাজ চলার কারণে অ্যালার্মগুলো বন্ধ রাখা হয়েছিল, কারণ শ্রমিকরা ভবনে ঢোকা-বের হওয়ার জন্য নিয়মিত ফায়ার এস্কেপ ব্যবহার করতেন।

৩৩ বছর বয়সী মা পরিবারের সঙ্গে কানাডায় থাকেন, তবে বছরে কয়েকবার হংকংয়ের ফ্ল্যাটে আসেন।
বিবিসিকে তিনি বলেন, “এমন বিপর্যয় এড়ানো যেত। তারা তাদের দায়িত্ব ঠিকমত পালন করেনি।”
তার অভিযোগ, সংস্কারের দায়িত্বে থাকা ঠিকাদার ‘নিম্নমানের, দাহ্য’ উপকরণ ব্যবহার করছিলেন। শ্রমিকদের ধূমপান করতে দেখা যেত, জানালার ধারে পাওয়া যেত সিগারেটের অবশিষ্টাংশ।

ওয়াং ফুক কোর্টের এই অগ্নিকাণ্ড অন্তত ৬৩ বছরের মধ্যে হংকংয়ের সবচেয়ে প্রাণঘাতী অগ্নিকাণ্ড।
এর আগে ১৯৬২ সালের শাম শুই পো এলাকায় এক অগ্নিকাণ্ডে ৪৪ জনের প্রাণ গিয়েছিল, সেই সংখ্যা এবার ছাড়িয়ে গেছে।

দমকল কর্মকর্তারা বলছেন, ভবনগুলোর বাইরে সংস্কার কাজের জন্য লাগানো বাঁশের কাঠামো, নিম্নমানের জাল ও প্লাস্টিক শিট আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে সহায়তা করে। ছবি: রয়টার্স
দমকল কর্মকর্তারা বলছেন, ভবনগুলোর বাইরে সংস্কার কাজের জন্য লাগানো বাঁশের কাঠামো, নিম্নমানের জাল ও প্লাস্টিক শিট আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে সহায়তা করে। ছবি: রয়টার্স

আশির দশকে নির্মিত ওয়াং ফুক কোর্টের আটটি ভবনের প্রতিটি ৩১ তলা করে। সেখানে ফ্ল্যাট বিক্রির ক্ষেত্রে সরকার ভর্তুকি দিলেও কমপ্লেক্সটির দৈনন্দিন ব্যবস্থাপনা পরিচালনা করে বেসরকারিভাবে নিয়োগ পাওয়া কোম্পানি।

২০২১ সালের জনগণনায় দেখা যায়, অন্তত ৪ হাজার ৬০০ মানুষ ওই কমপ্লেক্সে বসবাস করতেন, যাদের ৪০ শতাংশের বয়স ৬৫ বা তার বেশি।

শহরের দমকল বিভাগ বলছে, বাসিন্দাদের উদ্ধার করতে গিয়ে উচ্চ তাপমাত্রা, স্ক্যাফোল্ডিং ধসে পড়ার ঝুঁকি এবং ফ্ল্যাটগুলোর সংকীর্ণ ভেতরের অংশসহ নানা চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হয়েছে তাদের।

অতিরিক্ত ঘিঞ্জি আবাসন ব্যবস্থার জন্য কুখ্যাতি রয়েছে হংকংয়ের। এই শহরে সরকারি আবাসনে প্রত্যেক ভাড়াটিয়া পরিবার বসবাসের জন্য গড়ে ১৪.১ বর্গমিটার জায়গা পায়।

আগুন লাগার সময় ওয়াং ফুক কোর্টে কত মানুষ ছিলেন, তা এখনও স্পষ্ট নয়। উদ্ধারকর্মীরা শত শত মানুষকে অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রে সরিয়ে নিয়েছে; অনেকের জন্য জরুরি আবাসিক ইউনিট বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে।

সংস্কারকাজে জাল, প্লাস্টিক ও ক্যানভাস শিট ব্যবহারের ক্ষেত্রে অগ্নি নিরাপত্তার মান পূরণ করা হয়েছিল কি না, তা তদন্ত করছে পুলিশ। কিছু বিশেষজ্ঞের ধারণা, ভবনগুলো ঘিরে বানানো বাঁশের স্ক্যাফোল্ডিং বা মাচা আগুন ছড়াতে সহায়তা করেছে।

হংকংয়ের নির্মাণশিল্পে বাঁশের মাচা ব্যবহার একটি সাধারণ ঘটনা। তবে চলতি বছরের শুরুতে কর্তৃপক্ষ এর ব্যবহার ধাপে ধাপে তুলে দিয়ে আগুন-সহনশীল ইস্পাত ব্যবহারের পরিকল্পনা করে।

ওয়াং ফুক কোর্টের বাসিন্দারা গত বছর সংস্কার পরিকল্পনা ঘোষণার সময়ই উদ্বেগ জানিয়েছিলেন। সেই অভিযোগগুলো আবার সামনে আসায় স্বচ্ছতার অভাব নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।

“দায়িত্বে যারা ছিলেন, তারা ছোটখাটো সুবিধার কথা বলে বয়স্ক বাসিন্দাদের সমর্থন আদায় করতেন।”

মি. লাই নামের একজন বিক্রয়কর্মী বিবিসিকে বলেন, সংস্কার করতে যে অর্থ ব্যয় হচ্ছে, তা নিয়েও বাসিন্দারা প্রশ্ন তুলেছিলেন।

অনেকে ভবনের ব্যবস্থাপনা কমিটিতে নতুন করে নির্বাচন চেয়েছিলেন, তবে তাদের দাবি টেকেনি।

এ আগুন কোনো ‘বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়’ দাবি করে লাই বলেন, নির্মাণ কোম্পানিগুলো প্রায়ই নিরাপত্তার চেয়ে খরচ কমানোর দিকেই বেশি নজর দেয়।

তিনি বলেন, গত মাসে সংস্কার কাজে থাকা আরেকটি ভবনে আগুন লাগার সময় বাঁশের মাচা দাউ দাউ করে জ্বলে উঠেছিল।

“একই ধরনের ঘটনা বারবার ঘটলে তো প্রশ্ন ওঠে, সিস্টেমের ভেতেরই গলদ রয়েছে কি না।”

কর্তৃপক্ষ এখন ঘোষণা দিয়েছে, বড় ধরনের সংস্কার কাজ চলছে–এমন সব আবাসিক কমপ্লেক্সে নির্মাণ উপকরণের নিরাপত্তা মান যাচাইয়ে অভিযান চালানো হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Theme by: Theme Horse Proudly powered by: WordPress