মেন্টরিং এর নামে চলছে ভয়ঙ্কর প্রতারণা!

এবার অনলাইন বিজনেস শেখানোর নামে সাধারণ উদ্যোক্তাদের কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিলেন OTA তথা অনালাইন টেক একাডেমির মেন্টর খ্যাত মুজতাহিদুল ইসলাম, বেরিয়ে এলো অনেক চাঞ্চল্যকর তথ্য,এদিকে OTAর বিভিন্ন প্রলোভন ও কোর্স কিনে প্রতারিত হয়ে নিঃস্ব প্রায় এখন হাজার হাজার সাধারণ উদ্যোক্তা।মজার ব্যাপার হচ্ছে মোটিভেশন নামক ফু দিয়ে তিনি গত ৫বছর যাবৎ এই অপকর্ম করে আসছেন।এখন কথা হচ্ছে কেই মুজতাহিদ এবং OTA,

বগুড়ার একটি মাদ্রাসা থেকে ২০০৯ সালে তিনি দাখিল এবং ২০১১ সালে আলিম পাশ করেন, পরবর্তীতে রাজধানীর ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটি থেকে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন, কিন্তু অনেকেই তার ডিগ্রি বানোয়াট মিথ্যা বলে আখ্যা দিয়েছেন, অর্থাৎ তিনি গ্রাডুয়েশন কমপ্লিট করেননি লোক মুখে শোনা যাচ্ছে। জীবনের প্রথম ক্যারিয়ার শুরু করে ট্রাভেল ব্লগিং কিন্তু সেখানে বেশি দূর আগাতে না পেরে শুরু অনলাইন ফ্রিল্যান্সিং, সেখান থেকে অনলাইন ও ফেসবুকের যাবতীয় খুঁটিনাটি তিনি রপ্ত করেন।সেই দক্ষতা কাজে লাগিয়ে শুরু করে করেন অনলাইনে মধু ঘি ইত্যাদির ব্যবসা কিন্তু সেই ব্যবসা আর মধু চন্দ্রিমার মুখ দেখেনি, এরপর এই আমবর্ষার জ্ঞান কাজে লাগিয়ে শুরু করেন যারা অনালাইন ব্যবসা করে তাদের কান্সাল্টেন্সি দেয়া, অর্থাৎ যত কম জানে, তত বেশি জ্ঞান বিক্রি করে। এখানে টুকটাক মোটিভেশন দিয়ে এবার 2017 সালে তিনি চিন্তা করেন কিভাবে মোটিভেশন নামক ফু এবং কোর্স এর নামে টাকার মেশিন বানানো যায়, এবার শুরু হয় তার আসল খেলা অনালাইন টেক একাডেমি OTA,

আর ঘটনা শুরু হয় এখন থেকে, শুরুতে তেমন সাড়া পেলেও পরবর্তীতে ফেসবুকে মানুষকে বিজনেসের বিভিন্ন চমকপ্রদ বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে আকৃষ্ট করে তার OTA কোর্স কেনার জন্য উদ্বুদ্ধ করেন।

সিলভার নামের একটি কোর্স বিক্রি শুরু করেন ৯৯৯ টাকায়, এবং ধীরে ধীরে সেই কোর্স দাম হাঁকান ৮০০০/- অতপর এই কোর্স বিক্রি করে মোটামুটি সফলও হন তিনি।

এর শুরু করেন টাকার মেশিন নিয়ে খেলা, বের করেন গোল্ড কোর্স যার মূল্য নিধারণ করেন ৩৫০০০/- টাকা , তার মেম্বারদের নিয়মিত মোটিভিসন দিয়ে হাজার হাজার মানুষ কাছে বিক্রি শুরু করেন গোল্ড কোর্স বিক্রি করা, কিন্তু পরবর্তীতে দেখা যায় সেই কোর্সে যা দেয়া আছে এর চেয়ে ইউটিউব বা GOGOLE রিচার্জ করলে আরো অনেক কিছু শেখা যায়, এবং তিনি বলেন তার কোর্সে যদি কেউ উপকার না পে তাহলে তিনি রিফান্ড দিবেন, যখনি অনেক মেম্বার রিফান্ড চায় তখনি তার আসল রূপ বের হতে থাকে, শুরু তার নিজস্ব গ্ৰুপে তাদের নিয়ে নেগেটিভ আলোচনা , বিতাড়িত এবং ব্লক। অসংখ্য মানুষের পকেট খালি করেছেন তিনি।

এভাবে বিভিন্ন লোভ লালসা বিজনেস প্রজেক্ট বাবদ কারো কাছ থেকে ১০ লক্ষ , কেউ ১৫ লক্ষ, কেউ ২০ লক্ষ করে টাকা দিয়েছেন।

প্রতিফলন দিনের পর দিন তাদের ঘুরিয়ে ফিরিয়ে সর্বশেষ ব্লক করেন তিনি।

এছাড়া তার এখানে যারা কোর্স সফল হয়েছেন তাদের বিভিন্ন শকৌশলে সেই উদ্দোক্তাদের বিজনেস পলিসি হুবুহু কপি মেন্টর তার শালা , এবং আত্মীয় স্বজনদের সেই বিজনেস চালাতেন।

এমন প্রমান আমাদের কাছে আছে কোর্সের টাকা কেউ ধার করে, কেউ বউ এর গয়না বিক্রি করে, কেউ জমি বিক্রি করে, কেউ ছেলের বিদেশে পড়ানোর জন্য ফিক্সড ডিপোজিট ভাঙ্গিয়ে, কেউ ফ্লাট এর শেয়ার বিক্রি করে পরিশোধ করেছে। অথচ তিনি দিনের পর দিন এই অসহায় মানুষদের সাথে প্রতারণা করে গেছেন।

তার পূর্ববর্তী মেম্বাররা যদি কোর্স না নিতে চাইতো তাহলে তাদের ব্যাবসায়িক ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করতেন OTA মেন্টর মোস্তাহিদ।

সূত্রে জানা গেছে এই OTA মেন্টর এখন পযনত্ম নিজে সফল ভাবে কোনো অনলাইন বিসনেস দাঁড় করতে পারেননি।

উদ্যোক্তাদের কাছ থেকে টাকা নিয়ে এবং তাদের টাকা দিয়ে তিনি বিভিন্ন মোটিভেশনাল সভা , সেমিনার , টাকা হাঁকানোর নাম মিটআপ,

এমনও সময় আস্ত প্লেন ভাড়া করে কক্সবাজার , নেপাল টুর দিতেন, যাতে আরো নিরীহ নতুন নতুন মানুষদের আকৃষ্ট তার তৈরী কৃত ফাঁদে ফেলে পকেট ভারী করা যায়,

মাত্র কয়েক বছরে আঙ্গুল কলা গাছ হয়ে তিনি তার প্রতারণার বিশাল সাম্রাজ্য তৈরী করেন।

এছাড়াও তার তিনি অন্য উদ্যোক্তার মেয়ে কর্মচারীদের রাতে গুলশানে ডিনারে ডাকতেন, যা নিয়ে এখন সামাজিক মাধ্যমে তোলপাড় শুরু হয়েছে । ইতিমধ্যে অসংখ ভুক্তভুগি তার অপকর্মর বিরুদ্দে সামাজিক মাধ্যমে প্রতিবাদ শুরু করেছেন।

গুঞ্জন শুনা যাচ্ছে খুব শীগ্রই পরিবারসহ মালয়েশিয়ায় পাড়ি জমাতে যাচ্ছেন।

এখন দেখার পালা অসহায় মানুষের টাকা মেরে উনি কোন বিচারিক কাঠগড়ায় দাঁড়ায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Theme by: Theme Horse Proudly powered by: WordPress