ঘরের ভেতর সবুজের ছোঁয়া শুধু চোখকে আরাম দেয় না, বরং ঘরের সৌন্দর্যও বাড়িয়ে তোলে।
তবে অনেক সময় যত্নের ঘাটতি বা ভুল পরিচর্যার কারণে সুন্দর গাছগুলো টিকেই না।
গাছ কেনার আগে যথেষ্ট ধারণা না থাকা
অনেকেই নার্সারিতে বা বন্ধুর বাসায় কোনো গাছ দেখে পছন্দ করেন এবং কিনে ফেলেন।
তবে মার্কিন উদ্ভিদ বিশেষজ্ঞ ব্লিস বেনডল রিয়েলসিম্পল ডটকম-এ প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলেন, “সব গাছ সবার ঘরের পরিবেশে মানিয়ে নিতে পারে না। যদি ঘরে দিনে ছয় থেকে আট ঘণ্টা খুব উজ্জ্বল, ছায়াঘেরা আলো না থাকে, তবে কিছু গাছ টেকে না।”
তাই যে গাছটি ঘরে আনতে চান, তার আলো–বাতাস–তাপমাত্রা–যত্ন কেমন লাগে, আগে থেকে জেনে নেওয়া জরুরি।
অনিয়মিত যত্ন নেওয়া
গাছ পরিচর্যায় নিয়মিততা সবচেয়ে বড় বিষয়। যদি নিয়মিত বাড়ির বাইরে থাকেন বা দৈনন্দিন ব্যস্ততায় সময় বের করতে না পারেন, তবে টবগাছ পালন কঠিন হতে পারে।
গাছের যত্নের নির্দিষ্ট নিয়ম আছে, আর সেই নিয়ম মানতে হবে।
বিশেষত পানি দেওয়ার ক্ষেত্রে ভুল হলে গাছ খুব দ্রুত মরে যেতে পারে। একেক গাছের পানি চাহিদা আলাদা, তাই এক নিয়মে সব গাছকে পানি দিলে সমস্যা তৈরি হয়।
ট্যাপের পানি ব্যবহার করা
বেনডলের মতে, “ট্যাপ বা কলের পানিতে সোডিয়ামসহ বেশ কিছু উপাদান থাকে যা সময়ের সাথে মাটিতে লবণ জমিয়ে গাছের ক্ষতি করে।”
তাই তিনি পরামর্শ দেন- ডিস্টিল্ড বা লবণমুক্ত পানি ব্যবহার করতে। চাইলে ঘরের পানি ফুটিয়ে ২৪ ঘণ্টা রেখে ব্যবহার করলেও গাছ ক্ষতির হাত থেকে বাঁচবে।
গাছে সার না দেওয়া
অনেকেই মনে করেন গাছ শুধু পানি পেলেই হবে। তবে সার না দিলে গাছ ধীরে ধীরে দুর্বল হয়ে যায়।
কয়েক মাস পর পর গাছে সার দেওয়া উচিত। তবে শীতকালে বেশিরভাগ টবগাছে সার দেওয়া ঠিক নয়, কারণ তখন তাদের বৃদ্ধি খুব ধীর হয়।
সূর্যালোকের দিক বিবেচনা না করা
ঘরে আলো কোন দিক থেকে আসে সেটা অনেকেই খেয়াল করেন না।
তবে বেনডলের মতে, দক্ষিণ-পূর্ব দিকের আলো আর উত্তর-পশ্চিম দিকের আলো এক নয়। কোথা থেকে কখন কতটা আলো আসছে, তার ওপর নির্ভর করে কোন গাছ কোথায় রাখা উচিত।
অধীর হয়ে যাওয়া
অনেকে মনে করেন গাছ খুব দ্রুত বড় হবে বা নির্দিষ্ট জায়গায় মানানসই আকারে থাকবে। তবে সব গাছ একই গতিতে বাড়ে না।
বেনডল বলেন, “কিছু গাছ দ্রুত বড় হয়ে যায়, আবার কিছু গাছ এত ধীরে বাড়ে যে মনে হবে বাড়ছেই না। ফলে অনেক সময় গাছ ফেলে দেওয়া বা ভুল যত্ন নেওয়ার প্রবণতা তৈরি হয়।”
আর্দ্রতার মাত্রা বিবেচনা না করা
যারা শুষ্ক আবহাওয়া বা কম আর্দ্র এলাকায় থাকেন, তাদের টবগাছ বাছাইয়ে আরও সতর্ক হওয়া উচিত। তাই ঘরের আর্দ্রতা কতটা, তা জেনে গাছ নির্বাচন করলে গাছ সুস্থ থাকে।
সময়মতো ‘রিপট’ না করা
গাছ যখন বড় হয়, তখন তার শিকড়ও বড় হয়। ছোট পট বা টবে বেশি দিন রাখলে শিকড় জায়গা না পেয়ে ‘রুট-বাউন্ড’ হয়ে যায়।
বেনডল বলেন, “মাটিও সময়ের সাথে নষ্ট হয় এবং পানি বারবার দেওয়া হলে তার গুণাগুণ কমে যায়। তাই প্রতি কয়েক বছর পর নতুন মাটি ও বড় টবে গাছ স্থানান্তর বা ‘রিপট’ করা প্রয়োজন।”
পাতা পরিষ্কার না করা
পাতায় যদি ধুলো জমে, তবে সূর্যালোক ঠিকভাবে পাতায় পৌঁছায় না। এতে গাছের খাদ্য তৈরির প্রক্রিয়া (ফটোসিন্থেসিস) ব্যাহত হয়।
বেনডল বলেন, “নিয়মিত নরম কাপড়ে পাতা মুছে দিলে গাছ সুস্থ থাকে।”
এসি বা হিটারের ওপর গাছ রাখা
এসি বা হিটারের ওপরে গাছ রাখলে তাপমাত্রার তারতম্যের কারণে গাছ নষ্ট হয়ে যেতে পারে।
বেনডলের মতে, “গাছও জীবন্ত— শীত বা অতিরিক্ত গরমে যেমন মানুষ কষ্ট পায়, গাছও তেমনই ক্ষতিগ্রস্ত হয়।”
ড্রেনেজ নিশ্চিত না করা
অতিরিক্ত পানি জমে গেলে গাছের শিকড়ে পচন ধরে। তাই ড্রেনেজ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। গর্তযুক্ত পাত্র সবচেয়ে ভালো।
যদি পছন্দের পাত্রে গর্ত না থাকে, তবে নিচে কয়লা বা কংকর রাখা যেতে পারে—তবে সেটি আদর্শ নয়, কারণ তবুও পচন হতে পারে। তাই বিশেষজ্ঞরা গর্তযুক্ত পাত্র ব্যবহারের পরামর্শ দেন।
ঋতুচক্র অনুযায়ী যত্ন না নেওয়া
গাছও ঋতুর ওপর ভিত্তি করে তাদের বৃদ্ধি পরিবর্তন করে। অনেক গাছ শীতে অর্ধ-নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়ে এবং তখন কম পানি ও সার লাগে।