শাকিবের সিনেমায় যোগ না দেওয়ার পেছনে কি অন্য কারণ? অডিও ক্লিপে তিশার চমকানো অনুরোধ বেরিয়ে এলো!

‘তিশা ভারতীয় অ্যাম্বাসিতে গিয়ে পাসপোর্ট জমা দেননি, চলে যান আমেরিকা’‘তিশা ভারতীয় অ্যাম্বাসিতে গিয়ে পাসপোর্ট জমা দেননি, চলে যান আমেরিকা’
পরিচালক আরও জানান, তাঁরা তিশার জন্য এক মাস অপেক্ষা করেছেন। এমনকি ছবির অন্য গুরুত্বপূর্ণ শিল্পীর (বলিউড অভিনেতা শারমান যোশি) শিডিউল বদলাতে হয়েছে। দাবি করেন, তিশা ভারতীয় অ্যাম্বাসিতে গিয়ে পাসপোর্টটাও জমা দেয়নি; সে আমেরিকায় চলে যায়।

কলকাতার সিনেমা ‘ভালোবাসার মরশুম’–এর জন্য অগ্রিম অর্থ নিয়েও কাজ না করা এবং টাকা ফেরত না দেওয়ার অভিযোগে গত কয়েক সপ্তাহ ধরে সমালোচিত হচ্ছেন অভিনেত্রী তানজিন তিশা। কিছুদিন আগে তিশা নিজের দীর্ঘ স্ট্যাটাসে দাবি করেছিলেন, প্রযোজক ও পরিচালকের ব্যর্থতায় ভিসা না হওয়ায় তিনি ছবিটি করতে পারেননি।

কিন্তু সম্প্রতি ফাঁস হওয়া অডিও রেকর্ড তার দাবির সম্পূর্ণ বিপরীত তথ্য সামনে এনেছে। সেখানে শোনা যায়, ভিসা সমস্যা নয়, বরং শাকিব খানের সিনেমার শিডিউল সামলাতেই তিশা কলকাতার ছবির কাজ পিছিয়েছেন। অডিও মেসেজটি তিনি পাঠিয়েছিলেন ছবিটির প্রযোজক শরিফ খানের কাছে।

প্রযোজক শরিফ খান জানান, শাকিব খানের সিনেমার অজুহাত দেখিয়েই তিশা বারবার শিডিউল বদলানোর অনুরোধ করেছেন।
তিনি বলেন, ‘তিনি যখন শাকিব খানের লাস্ট সিনেমার কথা বললেন, তাঁর জন্য আমার পরপর দুইবার শিডিউল চেঞ্জ করতে হয়েছে। উল্টো আমাকে তিনি বলেন যে তার সময় নষ্ট হয়েছে। বেসিক্যালি বলতে গেলে অপেশাদার আচরণ তিনিই করেছেন।’

তিশা ফেসবুকে দেওয়া স্ট্যাটাসে দাবি করেছিলেন যে, প্রযোজকের ভিসা করতে না পারাই পুরো সমস্যার কারণ। তাই অভিযোগকে তিনি ‘ফালতু ও মিথ্যা’ বলেও উল্লেখ করেছিলেন। কিন্তু অডিওতে দেখা যায় ভিন্ন চিত্র।

অডিওতে তিশাকে নিজেই বলতে শোনা যায় যে শাকিব খানের সিনেমার শিডিউল বাধার কারণেই তিনি কলকাতার ছবির কাজ পিছিয়ে দিচ্ছেন এবং ভিসা নিয়ে কোনো সমস্যা নেই।

অডিওতে তিশা বলেন, ‘দাদা, তোমাকে আমি কী বলব এটা চিন্তা করেও আমি দুইবার কলব্যাক করি নাই। আই’ম সো ডেডিকেটেড অ্যাবাউট ইওর ফিল্ম। কিন্তু যেহেতু আমাদের শুটিং পেছাচ্ছে, শাকিব খানের সেই ফিল্মটা এত পেছানো যাচ্ছে না। আমরা প্ল্যান করছি— এই মাসের ২৫ তারিখের মধ্যে ঢাকার ফিল্মটা শেষ করে ফেলব।’

স্ট্যাটাসে তিনি ভিসার দোষ চাপালেও অডিওতে তিনি স্পষ্টই বলেন, ‘আমার ইন্ডিয়ান ভিসা না হয়ে আর কোনো উপায় নাই। সো টুডে টুমারো আমার ইন্ডিয়ান ভিসা হচ্ছেই। আমি তোমাকে রিকোয়েস্ট করব আমার ভয়েস রেকর্ডটা তুমি রেখে দাও। দিস ইজ আ স্টেটমেন্ট। তুমি কিছুদিন ডেটটা পেছাও। তুমি প্লিজ সবাইকে একটু বোঝাও, বোঝানোর চেষ্টা করো। দ্যাট আমার হাতে ভিসাটা ছিল না এতদিন। আর যেহেতু আমি পরপর দুইটা সিনেমায় সাইন করেছি। এই সিনেমা আমি পেছাতে পেছাতে কত পেছাব? কারণ এই সিনেমা কিন্তু দেশপ্রেম সিনেমা এবং এটা কিন্তু ১৬ ডিসেম্বর রিলিজ হবে। সো আমি এটা আর পেছাতে পারছি না। তাহলে এটা আমার পুরা ছেড়ে দিতে হবে। সো আমরা যেহেতু অনেক লেট করেছি আমরা আর ২০টা দিন আমরা লেট করি দাদা।’

ছবির পরিচালক এমএন রাজ মুখ খুলেছেন বিষয়টি নিয়ে। তিনি স্পষ্ট করে ভারতীয় গণমাধ্যমকে বলেন, ‘তিশা ভুল বিবৃতি দিচ্ছেন।’ পরিচালকের দাবি, তিশাকে টাকা দেওয়া হয়েছে। কাজ না করায় সেই টাকা তাকে ফেরত দিতেই হবে। এক সাক্ষাৎকারে এমএন রাজ বলেন, ‘আমি অন্য কাজে ব্যস্ত ছিলাম। ভেতরে ভেতরে কী হয়েছে জানতাম না। কিন্তু যেহেতু তিশাকে টাকা দেওয়া হয়েছে, সে অবশ্যই ফেরত দেবে। কোনো চুক্তিপত্রে টাকা ফেরতের বিষয় লেখা থাকে না। এটা নিয়মই নয়। সে কাজ করেনি, কিছু টাকা তো ফেরত দিতেই হবে।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Theme by: Theme Horse Proudly powered by: WordPress