সাক্ষাৎকারের শেষে রাহা বলেছেন, ভারতের উচিত হবে অপ্রয়োজনীয় সংঘাত এড়িয়ে চলা, তবে একইসঙ্গে যেকোনো পরিস্থিতির জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত থাকা।
ভারতের বিমানবাহিনীর সাবেক প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল অরুপ রাহা বলেছেন, পাকিস্তান ও বাংলাদেশ দুই দিক থেকেই সন্ত্রাসী আক্রমণের শঙ্কা বাড়ছে এবং ভারতকে এ ব্যাপারে প্রস্তুত থাকতে হবে। এ ব্যাপারে নজরদারি বাড়ানো, গোয়েন্দা সংস্থার প্রস্তুতি এবং সামরিক প্রতিরোধের ওপর ভারতের জোর দেওয়া উচিত বলে জানিয়েছেন তিনি।
ভারতের সংবাদমাধ্যম ইউনাইটেড নিউজ অব ইন্ডিয়াতে (ইউএনআই) গতকাল সোমবার প্রচারিত সাক্ষাৎকারে অরুপ রাহা বলেছেন, বর্তমান ভূরাজনৈতিক বাস্তবতায় পাকিস্তান ও বাংলাদেশ দুই দিক থেকেই সমন্বিত কিংবা একই ঢংয়ের সন্ত্রাসী আক্রমণের চ্যালেঞ্জ বাড়ছে ভারতের জন্য। ‘দুই প্রান্ত থেকেই সন্ত্রাসী আক্রমণের সম্ভাবনা প্রতিনিয়ত বাড়ছে এবং এটার বিরুদ্ধে আমাদের প্রস্তুতি নিতে হবে’ – বলেছেন অরুপ রাহা।
২০১৩ সালের ডিসেম্বর থেকে তিন বছর ভারতের বিমানবাহিনীর প্রধানের দায়িত্ব পালন করেছেন অরুপ রাহা। এর পাশাপাশি ২০১৪ সালের জুলাই থেকে ২০১৬ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত ছিলেন তিন বাহিনী প্রধান নিয়ে গঠিত কমিটির (চিফস অব স্টাফস কমিটি) চেয়ারম্যান। বর্তমানে তিনি ভারতের নিরাপত্তা পরিকল্পনা ও আঞ্চলিক গতিবিধি নিয়ে গবেষণাধর্মী কলকাতাভিত্তিক থিংক ট্যাঙ্ক ‘সেনার্স-কে’-এর প্রধান।
সাক্ষাৎকারে অরুপ রাহা বলেছেন, প্রতিবেশি দেশগুলোকে যে অস্থিতিশীলতা ঘিরে ধরছে, তার তুলনায় ভারতের শক্তিশালী অর্থনীতি ও স্থিতিশীল রাজনৈতিক চিত্রটা একেবারে বিপরীত। তাঁর দেশ ভারতকে আশপাশের ‘অস্থিতিশীলতার মরুভূমির মাঝে এক টুকরো সবুজ’ হিসেবে অভিহিত করেছেন রাহা।
ভারতের বিমানবাহিনীর সাবেক প্রধান অরুপ রাহা বলেছেন, বাংলাদেশ ও পাকিস্তান দুই দিক থেকেই সন্ত্রাসী হামলার শঙ্কা বাড়ছে ভারতের।
ভারত এ যাবত তাদের দেশে প্রায় সব সন্ত্রাসী আক্রমণের পেছনেই পাকিস্তানের হাত দেখে এসেছে। তবে অরুপ রাহা ভারতকে সতর্ক করে দিয়ে বলছেন, বাংলাদেশেও আদর্শিক একটা বদল আসছে। ‘শেখ হাসিনার সরকারের পতনের পর থেকে বাংলাদেশ মৌলবাদের দিকে ঝুঁকছে’ জানিয়েও অবশ্য অরুপ রাহা বলেছেন, এই পরিবর্তনটা সাময়িক। মৌলবাদের প্রতি এই ঝোঁককে বাংলাদেশে রাজনৈতিক পরিবর্তনের ফলে সৃষ্ট উত্থান জানিয়ে রাহা বলেছেন, ‘বাংলাদেশের মানুষ প্রকৃতিগতভাবেই ধর্মনিরপেক্ষ এবং শান্তিপ্রিয়। ফলে, মৌলবাদের দিকে এই যাত্রা খুব বেশি দিন স্থায়ী হবে না।’
তবে পাকিস্তান ঢাকার সঙ্গে গোয়েন্দা ও সামরিক বাহিনীর দিক থেকে একটা সম্পর্ক তৈরি করে ‘ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করার চেষ্টা চালাচ্ছে’ জানিয়ে রাহা বলেছেন, ভারতের অবশ্যই ‘দুই দিক থেকে সন্ত্রাসী আক্রমণের সম্ভাবনা ও ফলাফল কী হতে পারে’ এ নিয়ে আগে থেকেই বিশ্লেষণ করে রাখা উচিত।
যদিও পাকিস্তানের এই বাংলাদেশকে সঙ্গে নেওয়ার পরিকল্পনার পথে বাংলাদেশের মানুষের ১৯৭১ সালের গণহত্যার স্মৃতিই বাধা হয়ে দাঁড়াবে বলে মনে করেন তিনি। রাহার মতে, বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে সাংস্কৃতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক সম্পর্ক এত বছর ধরে চলে আসা টানের জোরেই টিকে যাবে, তবে এ ক্ষেত্রে বাড়তি নজরদারির প্রয়োজন আছে বলে ভারতকে সতর্ক করে দিয়েছেন তিনি।
‘গোয়েন্দা তথ্য খুঁজে আনা, বিশেষ করে যেসব সন্ত্রাসী গোষ্ঠী পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই-য়ের মদদপুষ্ট হয়ে থাকতে পারে, সেসবের তথ্য খুঁজে আনার ব্যাপারে আমাদের আগ বাড়িয়ে পদক্ষেপ নিতে হবে’, বলেছেন অরুপ রাহা। সম্প্রতি দিল্লির লাল কেল্লায় বিস্ফোরণ এবং দিল্লির আশপাশের অঞ্চলে বিস্ফোরক উদ্ধারের ঘটনাকে ‘বড় ষড়যন্ত্রের অংশ’ বলেও দাবি করেছেন তিনি।