ঠান্ডা–কাশি হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া
শীতে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখার উপায়: বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ
শীত এলেই ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য বাড়ে বাড়তি চিন্তা। ঠান্ডা আবহাওয়ায় শরীরের কার্যক্রম ধীর হয়ে যায়, পানি কম খাওয়া, কম নড়াচড়া—সব মিলিয়ে রক্তে শর্করার মাত্রা সহজেই বেড়ে যেতে পারে। তাই প্রতিটি ডায়াবেটিস রোগীরই শীতে কিছু অতিরিক্ত সতর্কতা মানা জরুরি বলে পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।
নিয়মিত চলাফেরার বিকল্প নেই
শীতে ভোরে হাঁটতে কষ্ট হলেও দিনের যে কোনো সময় ৩০–৪০ মিনিট দ্রুত হাঁটা রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সবচেয়ে বেশি ভূমিকা রাখে। ঘরের ভেতর হাঁটা, হালকা ব্যায়াম বা ফিজিক্যাল অ্যাকটিভিটি করলেও উপকার পাওয়া যায়।
পানির অভাব ডেকে আনতে পারে ঝুঁকি
ঠান্ডায় তৃষ্ণা কম থাকলেও দিনে অন্তত ৬–৮ গ্লাস পানি পান করা জরুরি। পর্যাপ্ত পানি না খেলে রক্ত ঘন হয়ে শর্করা বাড়তে পারে।
খাবারে সচেতনতা সবচেয়ে জরুরি
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শীতে পিঠাপুলি, মিষ্টি, ভাজাপোড়া—এসব খাবারের প্রতি মানুষের ঝোঁক বাড়ে। ফলে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখতে সুস্থ খাদ্যাভ্যাস বজায় রাখতে হবে।
একবারে বেশি না খেয়ে অল্প করে বারবার খাওয়ার অভ্যাস রক্তে শর্করা স্থিতিশীল রাখে।
স্ট্রেস, ঘুম ও নিয়মিত চেকআপ
শীতে রাত দীর্ঘ হয়, ফলে দেরি করে ঘুমানো, দেরি করে উঠা—এই অভ্যাসগুলো রক্তে শর্করা বাড়াতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ৭–৮ ঘণ্টার নিয়মিত ঘুম রাখা যেমন জরুরি, তেমনই স্ট্রেস কমানো এবং রক্তে শর্করা নিয়মিত পরীক্ষা করাও সমান প্রয়োজন।
শীতকালীন ডায়াবেটিস রোগীদের খাবারের তালিকা
নিচে একটি সহজ ও অনুসরণযোগ্য ডায়াবেটিস–ফ্রেন্ডলি খাবারের তালিকা দেওয়া হলো:
🌅 সকাল (ব্রেকফাস্ট)
লাল আটা/ওটসের রুটি ১–২টি
শাকসবজি ভাজি
সেদ্ধ ডিম (অর্ধেক/একটি)
চিনি ছাড়া গ্রিন টি বা লেবু পানি
🍎 Vormaadha Snacks
একটি আপেল/কমলা
অথবা: বাদাম ৫–৬টি
🍛 দুপুরের খাবার
লাল চাল/বাসমতি ভাত অল্প
একটি মাছ বা চিকেনের টুকরো
সালাদ (শসা, গাজর, টমেটো)
প্রচুর সবজি
ডাল
☕ বিকেলের নাস্তা
চাইলে চিনি ছাড়া চা
সাথে মুড়ি/চালভাজা অল্প
ডায়াবেটিক বিস্কুট ১–২টি
🌙 রাতের খাবার
রুটি ১–২টি / সামান্য ভাত
সবজি
মাছ/চিকেন
ঘুমানোর আগে আধা গ্লাস উষ্ণ পানি
বিশেষজ্ঞদের অতিরিক্ত পরামর্শ
অতিরিক্ত পিঠা, মিষ্টি, কেক–পেস্ট্রি এড়িয়ে চলা
খুব ঠান্ডা পরিবেশে দীর্ঘক্ষণ বাইরে না থাকা
ওষুধ বা ইনসুলিন নিয়মিত সময়ে নেওয়া