হার্ট, কিডনি ও লিভার: তিনটি অঙ্গ, তিনটি ঝুঁকি, কিন্তু সমাধানও সহজ—শুধু নিয়ম মেনে চলুন।

এছাড়া বার্ষিকভাবে সাধারণ স্বাস্থ্যপরীক্ষা করলে রোগের শুরুতেই ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হয় বলেও জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

4️⃣দেশে হার্ট, কিডনি ও লিভার–সংক্রান্ত রোগ দ্রুত বাড়ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দৈনন্দিন জীবনের সামান্য কিছু নিয়ম মানলেই এই তিন গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গকে অনেকটাই সুস্থ রাখা সম্ভব। খাদ্যাভ্যাস, পর্যাপ্ত পানি পান, নিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন এবং নিয়মিত স্বাস্থ্যপরীক্ষা—এই চারটি বিষয়ই সর্বাধিক গুরুত্ব পাচ্ছে।

হার্ট ভালো রাখার নিয়ম

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, হার্টকে সুস্থ রাখতে প্রথমেই প্রয়োজন নিয়ন্ত্রিত খাদ্য ও নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রম।

যে নিয়মগুলো মানা জরুরি

প্রতিদিন অন্তত ৩০ মিনিট হাঁটা বা ব্যায়াম

অতিরিক্ত লবণ, ভাজাপোড়া ও চর্বিযুক্ত খাবার কমানো

ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা

পর্যাপ্ত ঘুম ও মানসিক চাপ কমানো

ধূমপান ও অস্বাস্থ্যকর অভ্যাস থেকে দূরে থাকা

যে খাবারগুলো হার্টের জন্য ভালো

ওটস, লাল আটা, ব্রাউন রাইস

মাছ (ওমেগা–৩ সমৃদ্ধ)

শাকসবজি, পালংশাক, ব্রকলি

আপেল, কমলা, ডালিম

বাদাম ও আখরোট অল্প পরিমাণে

কিডনি ভালো রাখার নিয়ম

কিডনি রক্তের বর্জ্য ছেঁকে শরীরকে সুস্থ রাখে। শীত বা গরম—যে সময়ই হোক, কিডনির যত্নে কিছু মৌলিক অভ্যাস জরুরি।

যে নিয়মগুলো কিডনির জন্য জরুরি

পর্যাপ্ত পানি পান (শরীরের প্রয়োজন অনুযায়ী)

অতিরিক্ত লবণ কমানো

ব্যথার ওষুধ অযথা না খাওয়া

উচ্চ রক্তচাপ ও সুগার নিয়ন্ত্রণে রাখা

প্রতিদিন হালকা চলাফেরা

যে খাবারগুলো কিডনির জন্য উপকারী

শসা, লাউ, করলা, পুঁই

আপেল, নাশপাতি

ডাল, সবুজ শাক

পর্যাপ্ত পানি

চর্বি ও লবণ কম খাবার

লিভার ভালো রাখার নিয়ম

লিভার শরীরের বিষাক্ত পদার্থ দূর করা, শক্তি তৈরি ও হজমে বড় ভূমিকা রাখে। তাই এটি সুস্থ রাখা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

যে নিয়মগুলো লিভারের জন্য জরুরি

অতিরিক্ত জাঙ্ক ফুড, ভাজাপোড়া ও তেলযুক্ত খাবার কমানো

ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা

মিষ্টি, সফট ড্রিংক, কৃত্রিম পানীয় এড়িয়ে চলা

পর্যাপ্ত পানি পান

নিয়মিত হালকা ব্যায়াম

যে খাবারগুলো লিভারের জন্য ভালো

সবুজ শাক–সবজি (পালং, মুলা শাক, ধনেপাতা)

গাজর, বিট

লেবু পানি

আপেল, পেঁপে

আদা, রসুন

পর্যাপ্ত পানি

বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ: “জীবনযাপনই মূল চাবিকাঠি”

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হার্ট–কিডনি–লিভার তিনটিই ভালো রাখতে সবচেয়ে কার্যকর হলো ব্যবহারিক নিয়ম মেনে চলা। খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন, নিয়মিত ব্যায়াম, পর্যাপ্ত বিশ্রাম এবং মানসিক চাপ কমালে বড় রোগের ঝুঁকি অনেকটাই কমে যায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Theme by: Theme Horse Proudly powered by: WordPress